ইরানের নারীদের স্বাধীনতা চেয়ে সমালোচিত হ্যারি পটারের লেখিকা
হ্যারি পটার সিরিজের লেখিকা জে কে রাউলিং সম্প্রতি ইরানের নারীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তবে নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। কারণ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলা গণহত্যা ও ফিলিস্তিনি নারীদের বঞ্চনার বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
রাউলিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘যদি আপনি মানবাধিকার সমর্থন করেন তবুও ইরানের জন্য দাঁড়াতে না পারেন তাহলে আপনার আসল মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। এর মানে হলো যেসব মানুষ নিপীড়িত হচ্ছেন তাদের প্রতি আপনার কোনো সহানুভূতি নেই।’
নেটিজেনরা রাউলিংয়ের আচরণকে নির্বাচনি নারীবাদ বা ‘শর্তযুক্ত সহানুভূতি’ হিসেবে দেখছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার সময় তিনি নীরব ছিলেন, কিন্তু ইরান নিয়ে হঠাৎ উৎসাহ প্রকাশ করছেন। এটি প্রকৃত সহমর্মিতা নয়, বরং নির্বাচনী নৈতিকতা প্রদর্শন।
অনেকে রাউলিংকে দেখছেন একধরনের পশ্চিমা মানসিকতার প্রতীক হিসেবে, যেখানে নারীদের অধিকার তখনই গুরুত্বপূর্ণ যখন তা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মিলে। কিছু ব্যবহারকারী তার অতীত ট্রান্সফোবিয়া বিতর্কও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, যিনি নিজের দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন, তিনি বিদেশে স্বাধীনতা বা মুক্তি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন—যা হাস্যকর।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, রাউলিং বা পশ্চিমারা তখনই মানবতার প্রতীক হয়ে ওঠেন যখন মুসলিমদের ছোট করার সুযোগ পান। অন্যথায় তারা নীরব থাকেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সত্যিকারের সমর্থন হলো মানুষের সংগ্রামের পাশে দাঁড়ানো। এটি কখনো শূন্য বা অন্য কোনো অবিচারের সঙ্গে আলাদা অবস্থায় প্রকাশ করা উচিত নয়।
রাউলিং হয়তো মনে করেন তিনি ন্যায়বিচারের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ইতিহাস প্রশ্ন তোলে—আপনি কি কখনো অন্য কোনো নির্যাতনের বিপক্ষে কথা বলেছেন? যখন কেউ বেছে বেছে বিপ্লব বা প্রতিবাদ করেন, তখন সেটি হয় স্বার্থের কাজ, প্রকৃত বিপ্লব নয়।

